Category: HSC Lectures

জৈব যৌগের উৎপত্তি ও প্রাণশক্তি মতবাদ

উৎপত্তি ও প্রাণশক্তি মতবাদঃ উদ্ভিদ ও প্রানী তথা জীবনের স্পন্দনযুক্ত জীব উৎস থেকে সংগৃহীত যৌগসমূহকে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস ১৮০৭ খ্রিঃ সর্বপ্রথম নাম দেন জৈব যৌগ। তবে উনবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্ন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরীক্ষাগারে জৈব যৌগ সংশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাঁরা সবিস্ময়ে লক্ষ করলেন যে, এসব যৌগ প্রাণ স্পন্দনের অধিকারী সজীব পদার্থ উদ্ভিদ ও প্রানিদেহে অবিরাম উৎপন্ন হয়ে চলেছে। যেমন উদ্ভিদের পাতায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কার্বোহাইড্রেট উৎপন্ন হয়-

আবার, শিকড়ের সাহায্যে মাটি থেকে গৃহীত নাইট্রেট লবণ এ উদ্ভিদ দেহেই অণুজীবের প্রভাবে প্রোটিনে পরিণত হয়।

এসব পর্যবেক্ষন থেকে বার্জেলিয়াস ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, “জৈব যৌগসমূহ” উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে উপস্থিত  কোন রহস্যময় প্রাণশক্তির প্রভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে। পরীক্ষাগারে এদের প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। এই মতবাদ বার্জেলিয়াসের প্রাণশক্তি মতবাদ নামে পরিচিত।

১৮২৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রেডারিক উহলার (Friedrich Wohler) এ মতবাদ ভুল প্রমাণ করেন। তাঁর পরীক্ষাগারে হঠাৎ অ্যামোনিয়াম সায়ানেট প্রয়োজন হওয়ায় লেড সায়ানেট ও অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের বিক্রিয়ায় দ্রবণে অ্যামোনিয়াম সায়ানেট উৎপন্ন করেন।

অ্যামোনিয়াম সায়ানেটকে দ্রবণ থেকে কেলসিত করার জন্য তিনি তাপ প্রয়োগে দ্রবণটিকে ঘনীভূত করেন। উহলার সবিস্ময়ে লক্ষ করেন যে, উৎপন্ন কেলাসটি অ্যামোনিয়াম সায়ানেট নয়, এটি জৈব যৌগ ‘ইউরিয়া’। অর্থাৎ একটি অজৈব যৌগ থেকে পরীক্ষগারে একটি জৈব যৌগ উৎপন্ন হয়ে গেল।

তাঁর এ আবিষ্কারের ফলে ‘প্রাণশক্তি মতবাদ’ অর্থ্যাৎ, জৈব যৌগকে পরীক্ষাগারে প্রস্তুত করা যায় না এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হল। এ যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী উহলারকে আধুনিক জৈব রসায়নের জনক বলা হয়। অবশ্য পরবর্তীতে বহু জৈব যৌগ পরীক্ষগারে প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে

Read More
Mohammad Sadi May 30, 2020 0 Comments

আয়োডোমিতি ও আয়োডিমিতি কী?

আয়োডোমিতিঃ নির্দিষ্ট আয়নের সাথে কোনো জারক পদার্থের দ্রবণের আয়োডাইড লবণ (KI) এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন আয়োডিনকে প্রমাণ থায়োসালফেট দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করার মাধ্যমে মুক্ত আয়োডিনের পরিমাণ নির্ধারণ পদ্ধতিকে আয়োডোমিতি বলে।

নির্দিষ্ট পরিমাণ জারক পদার্থ (যেমন- CuSO₄ এর Cu2+ আয়ন) এর দ্রবণ কণিকেল ফ্লাক্সে নিয়ে এর মধ্যে অধিক পরিমাণ KI যোগ করলে তুল্য পরিমাণ আয়োডিন যুক্ত হয়। পরে যুক্ত আয়োডিনকে প্রমাণ Na₂S₂SO₃ দ্রবন দ্বারা টাইট্রেশন করা হয়। যেমন-

2CuSO₄ + 4KI → Cu₂ + I₂ + 2K₂SO₄

2Na₂S₂O₃ + I₂ → Na₂S₄O₆ + 2NaI

আয়োডিমিতিঃ সরাসরি প্রমাণ আয়োডিন দ্রবণের মাধ্যমে থায়োসালফেট, সালফাইট ইত্যাদি বিজারক পদার্থের টাইট্রেশন করার মাধ্যমে এদের পরিমাণ নির্ধারন করার পদ্ধতিকে আয়োডিমিতি বলে। যেমন-

2Na₂S₂O₃ + I₂ → Na₂S₄O₆ + 2NaI

Read More
Mohammad Sadi May 28, 2020 0 Comments